দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শেরপুরের সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ি অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য এখনও নিশ্চিত করা যায়নি সুপেয় পানির ব্যবস্থা। বছরের শুষ্ক মৌসুমে এসব এলাকার মানুষ খাবার পানির অভাবে ভোগেন। বিশুদ্ধ পানি না পেয়ে বাধ্য হয়েই পুকুর, ঝর্ণা ও কুয়ার পানি ব্যবহার করেন স্থানীয়রা। একইভাবে পানির অভাবে ব্যাহত হয় সেচ কাজ, ফলে ক্ষতির মুখে পড়েন কৃষকরাও। বছরের পর বছর এমন সংকট থাকলেও সমাধানে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই জনস্বাস্থ্য অধিদফতরের।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি বাড়িতে টিউবওয়েল থাকলেও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর শুষ্ক মৌসুমে ১০০ থেকে ১২০ ফিট নীচে নেমে যায়। ফলে দেখা দেয় তীব্র পানির সংকট। সাধারণ টিউবওয়েলে আর পানি থাকে না। তবে বিত্তশালীরা সাবমার্সিবল পাম্প ব্যবহার করে পানির প্রয়োজনীয়তা মেটায়।
শ্রীবরদী উপজেলার মালাকোচা, টিলাপাড়া, বালিজুড়ি, বিলভরাট, অফিস পাড়া, খ্রিস্টানপাড়া, মেঘাদল, মাটিফাটা, হারিয়াকোনা, বাবেলাকোনা। ঝিনাইগাতী উপজেলার তাওয়াকুচা, পানবর, গুরুচরণ দুধনই, ছোট গজনী, বড় গজনী, গান্ধিগাঁও, বাকাকুড়া, হালচাটী, নওকুচি, ধানশাইল, নলকুড়া, গৌরীপুর, নালিতাবাড়ী উপজেলার গারোপাড়া, বাতকুচি, টিলাপাড়া, লক্ষ্মীকুড়া, পূর্ব সমেশ্চুড়া এলাকায় ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর প্রায় ১০০-১২০ ফুট নিচে নেমে যায়। ফলে ওইসব এলাকায় খাবার পানির তীব্র সঙ্কট দেখা দেয় শুষ্ক মৌসুমে।
ঝিনাইগাতী উপজেলার নওকুচি এলাকার নৃগোষ্ঠীর গৃহিণী সিলভী রাণী কোচ বলেন বলেন, ‘শুধুমাত্র নির্বাচনের সময় মেম্বার-চেয়ারম্যানরা পানির সমস্যা সমাধান করে দিতে চায়। কিন্তু নির্বাচন চলে গেলে কেউ আর খোঁজ রাখেন না। আমাদের ১৫টি বাড়ির জন্য একটা টিউবওয়েল দিলেও চলে। তাছাড়া শুষ্ক মৌসুমে জমিতে সেচ দেওয়া যায় না।’
শ্রীবরদী উপজেলার রাণীশিমুল ইউনিয়নের মালাকোচা গ্রামের কৃষক সোহেল রানা বলেন, ‘অনেকেই তো কই-সরকার পানির ব্যবস্থা কইরা দিব, কই কেউই তো আইজ পর্যন্ত আমগো খুঁজও নিল না। আমরা পুকুরের পচা পানি খাইয়া রোগ-বিরুগে ভুঁগতাছি, কেউতো দেখবারও আয়েন না। এইডা কোনো কথা হইলো। আমরা গভীর মোটর (সাবমার্সিবল পাম্প) চাই।’
বেসরকারি সংস্থা এসএইচআরএস এসব অঞ্চলে বিশুদ্ধ পানি নিয়ে কাজ করে। তারা বলছে, শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার প্রায় ২০টি গ্রামের অন্তত ৩০ হাজার মানুষ কোনো না কোনো ভাবে সুপেয় পানির অভাবে ভুগেন। তবে এ নিয়ে সরকারের বড় কোনো পরিকল্পনা এলাকায় নেই।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর তথ্যমতে, শুষ্ক মৌসুমে সীমান্তবর্তী এসব এলাকার শতকরা ৬০ থেকে ৭০ ভাগ টিউবওয়েল অকেজো হয়ে পড়ে। ফলে বিশুদ্ধ পানির অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় ওইসব এলাকায় বসবাসকারী মানুষজনের।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান বলেন, শুষ্ক মৌসুমে পাহাড়ি জনপদে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নীচে নেমে যাওয়ায় পানির সংকট হয়। বিষয়টি জরিপ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অবগত করা হবে।